Pages

Sunday, 21 May 2017

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে চান? রোজ খান ডার্ক চকোলেট, থাকবেন সদা প্রাণবন্তও

গবেষকেরা বলছেন এই ডার্ক চকোলেট খেলে মস্তিষ্কের বয়স বাড়তে পারে না।
বাচ্চা থেকে বড়, সকলেই চকোলেট খেতে খুব ভালোবাসে। চকোলেট খেতে ভালোবাসে না, এমন মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না।
বার্থ ‌যে পার্টি হোক কিংবা যে কোনও অনুষ্ঠান। কথার বলে না খাবার শেষে মিষ্টি মুখ তো চাই-ই চাই। কেউ মিল্ক চকোলেট পছন্দ করে, কেউ বা ডার্ক চকোলেট । তবে জানেন কি, ডার্ক চকোলেট শুধু মনই ভরিয়ে দেয় না। ডার্ক চকোলেট খেলে আপনার স্মৃতিশক্তিও থাকবে চাঙ্গা। গবেষকেরা বলছেন এই ডার্ক চকোলেট খেলে মস্তিষ্কের বয়স বাড়তে পারে না। (আরও পড়ুনঃ ওজন তো প্রতিরোধ করেই, জানেন কি ওজন নিয়ন্ত্রণে মিষ্টি কুমড়োর কামাল?)

অ্যালজাইমার বা ওই ধরণের রোগের কারণে মস্তিষ্কের বয়স বাড়তে দেয় না। গবেষকেরা বলছেন, যাঁরা ডার্ক চকোলেট খান, তাঁদের স্মৃতিশক্তি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত।
মূলত আমাদের বাড়তে থাকা কাজের চাপ, টেনশন, কেরিয়ারের চাপ, সব নিয়েই স্ট্রেসের কারণে আমাদের মস্তিষ্কের বয়স বেড়ে যায়। সেই সমস্যা থেকে প্রতিরোধ করতে পারে ডার্ক চকোলেট । তাহলে মস্তিষ্কের বয়স যা না বাড়ে, তার জন্য ডার্ক চকোলেট খান। আর খুদেরা তো অবশ্যই খাক, ‌যাতে ছোট থেকেই স্মৃতিশক্তি থাকে শান দেওয়া তলোয়ারের মতো।

মাইগ্রেনের ব্যাথা দূর করতে পুদিনা পাতা মোক্ষম দাওয়াই!

পুদিনা পাতা আমাদের শরীরে কী কী উপকার করে? জেনে নিন
হজমশক্তি ঠিকঠাক রাখতে কিংবা অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে পুদিনা ‌যেন মহাষৌধির কাজ করে। কিন্তু জানেন কি, পুদিনা পাতা আমাদের মাইগ্রেনের ব্যাথাও কমায়? (আরও পড়ুনঃ স্মৃতিশক্তি বাড়াতে চান? রোজ খান ডার্ক চকোলেট, সদা থাকবেন প্রাণবন্তও)

জেনে নিন পুদিনা পাতার গুণাগুন
  • মাথা যন্ত্রণা , মাইগ্রেন –এর সমস্যা থেকেও আমাদের মুক্তি দেয়।
  • কফ, সর্দি, কাশি, ঠান্ডা লাগা থেকে রক্ষা করে পুদিনা পাতা।
  • প্রচুর পরিমানে ক্যালশিয়াম , ফসফরাস , ভিটামিন সি, ডি, ই থাকায় আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • যাঁদের অ্যাকনের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য পুদিনা পাতা খুবই উপকারী। ত্বককে সুস্থ রাখতে পুদিনা পাতার জুড়ি মেলা ভার।

মাথায় টাক পড়া থেকে বাঁচতে চান? তাহলে ঘরেই বানান এই ওষুধ

দেখুন কীভাবে বানাবেন...
চুল পড়া সমস্যায় ভুগছেন? অবশ্য, এই সমস্যা নেই এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। অনেকের আবার চুল পড়া যেন নিত্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারো কারো তো চুল পড়তে পড়তে একপ্রকার টাকই হয়ে গেছে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আমরা কত কিছুই না ব্যবহার করে থাকি।
(আরও পড়ুন:এবার পরীক্ষার আগে ‘টিপস’ও দিচ্ছেন বাহুবলী, দেবসেনা!দেখুন)
অনেকেই ঝরে পড়া চুল নতুন করে গজানোর আশায় বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য বা ওষুধ ব্যবহার করেন। চুল না থাকা সত্ত্বেও মাথার পরিপূর্ণ সৌন্দর্য ধরে রাখতে কেউ কেউ নকল চুলও ব্যবহার করেন।তবে এটা হয়ত অনেকেরই জানা নেই, খুব সহজ ঘরোয়া পদ্ধতিতেই চুল পড়া ঠেকানো ‌যায়।
(আরও পড়ুন: শাহরুখ-হৃতিক ফের ‘কাছাকাছি’ আসুন, চাইছেন সুজান-গৌরী) 
কীভাবে জানেন?
পেয়ারা পাতা দিয়ে। এই পাতা চুল পড়া আটকাতে ও গজাতে ভীষণ কা‌র্যকরি বলে জানাচ্ছে খোদ গবেষকরাই।
(আরও পড়ুন: ‍’বাহুবলি‍’ প্রভাসের জন্য দেওয়া হল বিয়ের বিজ্ঞাপন,কেমন পাত্রী চাইছে জানেন)
গবেষকদের দাবি, পেয়ারা পাতা নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মাথার চুলের ঝরে পড়া রোধ হয় এবং চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পেয়ারা পাতায় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন বি, যা স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য খুবই উপকারী।
(আরও পড়ুন: ‘সচিন: এ বিলিয়ন ড্রিমস’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বয়ং ‍’ক্রিকেট ঈশ্বর‍’)
তাদের আরো দাবি, পেয়ারা পাতা অবশ্যই মাথার চুল ঝরে পড়া রোধ করবে। সেই সঙ্গে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে। এটি চুলের সংযুক্তিস্থল অর্থাৎ গ্রন্থিকোষ ও শিখড়কে অনেক শক্ত করে।
(আরও পড়ুন: প্রাক্তন স্ত্রীকে কাছে পেতে কত কোটি খসছে হৃতিকের পকেট থেকে!)

ব্যবহারের বিধিমালা
কয়েকটি পেয়ারা পাতা পরিষ্কার জলে নিয়ে  উনুনে বসান

ভালো করে পাতাগুলি ২০ মিনিট সিদ্ধ করুন

দেখুন পেয়ারা পাতার মিশ্রণটি লালচে হয়ে এসেছে। এবার সেটাকে নামিয়ে ঠাণ্ডা হতে রেখে দিন।

এবার সেই ঠাণ্ডা হয়ে ‌যাওয়া মিশ্রণটি কোনও একটি বোতলে ঢেলে রাখুন। সময় মত, সেটাকে হেয়ার টনিকের মত মাথার চুলের গোড়ায় নিয়মিত লাগান।মিশ্রণটি বেশি করে বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন।

রাতে শুতে ‌যাওয়ার আগে এটা দিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন। এরপর সকালে উঠলে তা ধুয়ে ফেলুন।

যন্ত্রণাদায়ক ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নেওয়ার দিন শেষ হচ্ছে,

যন্ত্রণাদায়ক ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নেওয়ার দিন শেষ হচ্ছে, আসছে ডায়বেটিসের নতুন ওষুধ, আশার আলো দেখালেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা

ভারতের মতো দেশে ডায়বেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হুহু করে। এক সময়ে নাকি দুনিয়ার বেশিরভাগ ডায়বেটিস রোগীই হবেন ভারতের। এদের জন্য সুখবর। ডায়বেটিসের জন্য আসছে নতুন এক ওষুধ।
রক্তে বাড়াবাড়ি রকমের চিনি ধরা পড়লে আর উপায় থাকে না। নিয়মিত ইনসুলিন ইঞ্জেকশন না নিয়ে খাবার মুখে তোলার উপায় নেই। এবার সেই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে চলেছে ডায়বেটিসের এক নতুন ওষুধ। এতে বিদায় নেবে ‌যন্ত্রণাদায়ক ওই ইঞ্জেকশন।(আরও পড়ুন : মাথায় টাক পড়া থেকে বাঁচতে চান? তাহলে ঘরেই বানান এই ওষুধ)
ডায়বেটিস এমন এক অবস্থা ‌যেখানে শরীরে হয় ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না নয়তো ইনসুলিন ঠিকঠাক ব্যবহার করতে পারে না। ‌যেসব রোগীর টাইপ ১ ডায়বেটিস রয়েছে তাদের নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয় শরীরে সুগারের মাত্র ঠিক রাখতে। অনেক রোগীকে দিনে একাধিকবার ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নিতে হয়।
নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে ডায়বেটিস হলে আর ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেডের গবেষকরা দাবি করেছেন তাদের তৈরি একটি ওষুধ ডায়বেটিসের সঙ্গে লড়তে সক্ষম। এমনকি তা রুখে দিতেও সক্ষম।(আরও পড়ুন : মাইগ্রেনের ব্যাথা দূর করতে পুদিনা পাতা মোক্ষম দাওয়াই!)
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জন বার্নিং সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে ইনসুলিনের ব্যবহার ছাড়া উপায় নেই। এর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নতুন ওষুধ তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ সুগারের ওষুধের মতো এই ওষুধ লিভারের ওপরে কোনও প্রভাব ফেলে না। তার পরিবর্তে ফ্যাট টিস্যুতে কাজ করে। এভাবেই রক্তে সুগারের মাত্রা কমিয়ে ফেলে।

মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় -2016 জেলার জয়, প্রায় বিলুপ্ত কলকাতা

প্রথম দশে রয়েছে ৬৬ জন। তার মধ্যে ১৭ জন ছাত্রী। প্রথম দশে অনেকটাই পিছিয়ে কলকাতা। কলকাতা থেকে স্থান হয়েছে মাত্র দু'জনের।
আজই প্রকাশিত হয়েছে মাধ্যমিকের ফল। আর তার প্রথম দশে জেলার জয়জয়কার। এবার মাধ্যমিকে প্রথম হয়েছে কোচবিহার মাথাভাঙা হাইস্কুলের পরীক্ষার্থী সৌভিক মণ্ডল। ৬৮৩ নম্বর পেয়েছে সে। প্রথম দশে রয়েছে ৬৬ জন। তার মধ্যে ১৭ জন ছাত্রী। প্রথম দশে অনেকটাই পিছিয়ে কলকাতা। কলকাতা থেকে স্থান হয়েছে মাত্র দু’জনের। তাও একজন নরেন্দ্রপুর ও একজন সোনারপুরের পড়ুয়া। পড়ুন: প্রকাশিত হল মাধ্যমিকের ফল
দ্বিতীয় স্থান (৬৮২)
তিতাস দুবে, সিমলাপাল মঙ্গলময়ী বিদ্যামন্দির (বাঁকুড়া)
রুমিক দত্ত, দুবরাজপুর সারদা বিদ্যাপীঠ (বর্ধমান)
দেবদত্তা পাল, বিনোদিনী গার্লস হাই স্কুল (হুগলি)
তৃতীয় স্থান (৬৮১)
শুভ্রজিৎ মণ্ডল, চাকদা রমালাল একাডেমি (নদিয়া)
অনীক ঘোষ, রামপুরহাট জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবন (বীরভূম)
‌অনিকেত মিশ্র, এগরা জ্ঞানদ্বীপ বিদ্যাপীঠ (পূর্ব মেদিনীপুর)
কাটোয়া কাশীরামদাস ইন্সটিটিউশন (বর্ধমান)
চতুর্থ স্থান (৬৮০)
অনিকেত মিশ্র, এগরা জ্ঞানদ্বীপ বিদ্যাপীঠ
কৌস্তুভ রায়, কাশীরামদাস ইন্সটিটিউশন
 পঞ্চম স্থান (৬৭৯)
বিশাল গঙ্গোপাধ্যায়, অন্বেষা মিশ্র, রায়গঞ্জ গার্লস, মেঘাশ্রিতা দাস, মধুরিমা ঘোষ, সোহম চৌধুরী, আদর্শ হাজরা, সায়শ্রী ভট্টাচা‌র্য, সৌম্যজ্যোতি মাইতি
ষষ্ঠ স্থান (৬৭৮)
দেবাঞ্জন বসু রায়, সৌমেন্দু বাগ,
সপ্তম স্থান (৬৭৭)
সৌরদীপ নাথ

‘বিজ্ঞান পত্রিকা’-র ষষ্ঠ সংখ্যাঃ ভিক্টর হেস ও অন্যান্য প্রবন্ধ


মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার আনন্দ ভাগ করে নিতে যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘বিজ্ঞান’ পত্রিকার। সারা পৃথিবী জুড়ে বিজ্ঞানকে কেন্দ্র করে যে বিপুল কর্মযজ্ঞ ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত, তার খুঁটিনাটি যাতে বাংলাভাষী ছাত্র ছাত্রীদের কাছে পৌঁছে দিতে পারি, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমরা, অর্থাৎ ‘বিজ্ঞান’ পত্রিকার সাথে প্রত‍্যক্ষ‍ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রতিটি মানুষ, সেই চেষ্টাটুকুই করে চলেছি। পরীক্ষা পাশের জন্য নয়, বরং নিছক ভালো লাগা থেকে যদি পাঠকেরা বিজ্ঞান পড়ে, বিজ্ঞান নিয়ে ভাবে, সেটাই হবে ‘বিজ্ঞান’ পত্রিকার সবচেয়ে বড় সাফল্য ।

সকলের সহযোগিতায় পত্রিকার ষষ্ঠ সংখ্যা প্রকাশ করতে পেরে আমরা আনন্দিত বোধ করছি।

এবারে আসি এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলির কথায়।

অসীম অনন্ত মহাকাশে ছড়িয়ে রয়েছে অগুনতি গ্রহ-তারা-ছায়াপথ। আর তার মাঝে একমেবাদ্বিতীয়ম আমাদের এই পৃথিবী। পৃথিবীর বাইরে অন্য গ্রহে প্রাণের সন্ধানে বহুদিন ধরেই নানা গবেষণা করে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রাণ কি শুধুই পৃথিবীতে – এ কৌতূহল আজকের নয়। চারপাশে প্রাণের এত কোলাহল দেখে মনে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, কোথা থেকে এলো এত প্রাণ? আজ পৃথিবীব্যাপী বিজ্ঞানের এই জয়জয়কারের যুগে, কতটুকু জানতে পেরেছি আমরা এই পৃথিবীকে? এখনো কি কি জানা বাকি?

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরাকে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের বাসের অযোগ‍্য করে তুলছি দিনের পর দিন। গ্লোবাল ওয়ার্মিং, গ্লোবাল ডিমিং-এর পর বর্তমানে গ্লোবাল ব্রাউনিং নামক এক নতুন সমস্যা বিজ্ঞানীদের চিন্তায় ফেলেছে। দূষণের জেরে বেড়ে চলা পৃথিবীর গড় উষ্ণতা (গ্লোবাল ওয়ার্মিং), সূর্যালোকের ভূপৃষ্ঠে কম মাত্রায় পৌঁছানো (গ্লোবাল ডিমিং), বিশ্বব্যাপী স্বচ্ছ জলের ক্রমশ ঘোলা হয়ে যাওয়া (গ্লোবাল ব্রাউনিং) ইত্যাদি সমস্যার কারণে জীবজগতের অস্তিত্ব আজ সঙ্কটাপন্ন। প্রখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং-এর মত অনুযায়ী, মানবসভ্যতাকে আরও ১০০০ বছর বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই ধ্বংস হতে বসা গ্রহ থেকে পালানো ছাড়া আর পথ নেই। তাঁর মতে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে আমাদের মহাকাশ অভিযান চালিয়ে যেতে হবে পুরোদমে। কবিগুরুর ভাষায় বলতে গেলে ‘মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকাল মাঝে’ যদি আমরা খুঁজে বার করতে পারি আমাদের নতুন ঠিকানা, যদি ব্যাগপত্র গুছিয়ে পাড়ি দিতে পারি ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’র মাঝে, মানবসভ্যতার ইতিহাসে তা হবে এক অবিস্মরণীয় অবদান।

তারায় ভরা আকাশের কথা রয়েছে ছায়াপথ প্রবন্ধে।

আবার, এই তারাময় মহাকাশ থেকে প্রতি ক্ষণে ঝরে পড়ছে অনেক অনেক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা – মহাজাগতিক বা কসমিক রশ্মি হিসাবে। এই কণাগুলোর অনেকেই আকাশ বাতাস আর আমাদের ফুঁড়ে চলে যাচ্ছে মহাবিশ্বের এপার থেকে ওপারে। কসমিক রশ্মির আবিষ্কর্তা অস্ট্রিয়ার বিজ্ঞানী ভিক্টর হেস প্রয়াত হয়েছিলেন ডিসেম্বর মাসেই (১৯৬৪ সালের ১৭ই ডিসেম্বর)। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে এই সংখ্যায় রয়েছে ভিক্টর হেস ও মহাজাগতিক রশ্মি লেখাটি।

depressionপ্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সমাজে সাফল্যের ইঁদুরদৌড়ে সামিল হতে গিয়ে মানুষ দিন দিন আরও একা হয়ে পড়ছে। এই ভয়ানক একাকীত্ব থেকে জন্ম নিচ্ছে শারীরিক, মানসিক নানাধরনের অসুখ। যার মধ্যে একটা নাম আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে, সকালে খবরের কাগজ থেকে শুরু করে রাত্রে টেলিভিশন স্ক্রীন – তা হল ডিপ্রেশন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) – এর তথ্য অনুযায়ী সারা পৃথিবীতে এই মুহূর্তে ৩৫ কোটি মানুষ এই অসুখে ভুগছেন। প্রতি বছর প্রায় ৮ লক্ষেরও বেশি মানুষ ডিপ্রেশনজনিত কারণে আত্মহননের পথ বেছে নেন। এই সংখ্যায় আমরা প্রকাশ করেছি ডিপ্রেশন রোগের সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্ত। প্রচলিত ভুল ধারণা, অর্থাৎ যে কোনো মনের অসুখ মাত্রেই যে ডিপ্রেশন নয়, সেটা সমাজের প্রতিটি মানুষের জানা বড় প্রয়োজন।

নদীর স্রোতের অনুকূলে নৌকার বেগ অথবা তৈলাক্ত বাঁশে বাঁদরের ওঠানামা – অঙ্ক দেখলে ভয় করে না এরকম ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা বোধহয় খুব কম নয়। সেই অঙ্কের সাথে কী করে বন্ধুত্ব পাতানো যায় তার হদিশ নিয়ে আমরা হাজির বিজ্ঞানের এই সংখ্যায় অঙ্ক কি শক্ত লেখাটিতে।

বর্তমান পৃথিবীর একটি জ্বলন্ত সমস্যা – যুদ্ধ। যুদ্ধ বলতে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে শয়ে শয়ে মানুষ, হাতে ধারালো মারণাস্ত্র। নিরীহ সাধারণ মানুষ যুদ্ধ করে পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে, আত্মরক্ষার তাগিদে। ঠিক একইভাবে গাছও যুদ্ধ করে, নিজের প্রাণ বাঁচাতে। কে না জানে, গাছেরও প্রাণ আছে? রহস্যময়ী প্রকৃতির এ আর এক অজানা বিস্ময়, গাছেদের যুদ্ধ, যা এবার ধরা দিয়েছে ‘বিজ্ঞান’ এর পাতায়।

দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট ঘটনাগুলোর পেছনের বিজ্ঞানসম্মত কারণগুলো বুঝতে পারলে বিজ্ঞানকে আরও সহজে আমরা ভালোবাসতে পারবো, শুধু বইয়ের পাতায় নয়, বিজ্ঞান ছড়িয়ে আছে সর্বত্র, রাস্তাঘাট থেকে খেলার মাঠ। যাতায়াতের রাস্তায় নর্দমা খোঁড়াজনিত সমস্যা, দুর্গন্ধ ইত্যাদি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অতিপরিচিত ঘটনার আড়ালের বিজ্ঞানটা আমরা কজন জানি? কেন শুধুমাত্র রাতের অন্ধকারেই নর্দমার দুর্গন্ধ পাওয়া যায়, দিনের আলোয় নয়? জানতে হলে পড়তে হবে বিজ্ঞান পত্রিকার ষষ্ঠ সংখ্যা।

বিজ্ঞান পত্রিকা-র সপ্তম সংখ্যা: প্রাণীজগতে স্বার্থপরতা


ছোটবেলায় স্কুলে পড়ার সময় প্রচন্ড উৎসাহ থাকা সত্ত্বেও আমাদের অনেকেই বাংলায় ভালো বিজ্ঞানের লেখার অত্যন্ত অভাব বোধ করতাম। স্কুলের বেশিরভাগ পাঠ্যবইতে যেরকম নীরসভাবে বিজ্ঞান পড়ানো হয়, তাতে বিজ্ঞানের উৎসাহ পালাতে পথ পায় না। জিজ্ঞাসার জায়গায় চলে আসে নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা। নম্বর দিয়ে বিচার হয় একজন ছাত্র বা ছাত্রীর মেধা, চাপা পড়ে যায় জিজ্ঞাসু মনটা। অথচ পরবর্তী জীবনে আমরা যখন গবেষণা করতে আসি তখন দেখি সেখানে নম্বরের কোনো মূল্যই নেই। যে সৃষ্টিশীল, যে নতুন নতুন ভাবনার জন্ম দেয়, যার মনে পাখা মেলে কল্পনারা, আর সেই কল্পনাকে বাস্তব করতে যে পুরোনো ভাবনার ভুল-ত্রুটি দূর করে নতুন পথের দিশা দেখায়, বিজ্ঞানের দরবারে তারই কদর।

সৃষ্টিশীলতা মানুষের সহজাত। তাই নতুন প্রজন্মকে নম্বর বাড়ানোর ইঁদুর দৌড়ে সামিল না করে মুক্তমনে ভাবনা চিন্তা করার অবকাশ দিতে হবে আমাদের । সেই আশাতেই বিভিন্ন স্বাদের , বিভিন্ন আবিষ্কারের গল্প আমরা ‘বিজ্ঞান’-এর ওয়েবসাইটে  তুলে ধরি আমাদের মাতৃভাষা বাংলায়। ‘বিজ্ঞান’-এ প্রকাশিত লেখার বাছাই সংকলন হল ত্রৈমাসিক ‘বিজ্ঞান পত্রিকা’।  

এবারের সংখ্যায় আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি মূলত প্রাণীজগতে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার অন্তর্দ্বন্দ্ব। কোনো জটিল যন্ত্র বা কঠিন তত্ত্ব ছাড়াই বিজ্ঞানীরা কেবল অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে এই দ্বন্দ্বের খুঁটিনাটি খুঁজে বার করেছেন। কেবল অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে আর চোখ-কান খোলা রেখেই তাঁরা করে গেছেন একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার, দেখিয়েছেন আমাদের আসে-পাশের আপাত সাধারণ ঘটনার মধ্যে বিজ্ঞানের অসাধারণ কারসাজি। আমাদের বিশ্বাস এই লেখাগুলি আমাদের পাঠক বন্ধুদের বইয়ের বাইরের জগৎকে বিজ্ঞানীর চোখ দিয়ে দেখতে অনুপ্রাণিত করবে। জন্ম নেবে বিজ্ঞানের প্রতি অপরিসীম আগ্রহ/ভালোলাগা।

 প্রথম লেখাটির ভূমিকায় একটা আপাত সহজ প্রশ্ন করা যায়। আচ্ছা বলো তো, পুকুরে হাবুডুবু খাওয়া ভাইকে বাঁচাতে কি  তুমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জলে ঝাঁপিয়ে পড়বে? প্রথমে শুনে মনে হতে পারে, ‘অবশ্যই, ভাই ডুবে যাচ্ছে, বাঁচাবো না?’ কিন্তু একটু ভাবলেই পরিষ্কার হবে যে , উত্তরটা নির্ভর করবে জলে লাফ দিতে কতটা ‘রিস্ক’ আছে, তার উপর। যদি কেউ জানে যে জলের স্রোত এমন যে ঝাঁপ দিলেই সাক্ষাৎ মৃত্যু, তাহলেও কি সে ঝাঁপ দেবে? আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, মনুষ্য সমাজে অনেকেই আছে যারা নিজেদের বিপদের তোয়াক্কা না করেই এগিয়ে যায় অন্যদের সাহায্য করতে, আবার অনেকেই আছে যারা তুলনামূলকভাবে বেশি ‘স্বার্থপর’।

এই ‘স্বার্থপর’ বা ‘স্বার্থশূন্যতা ’ কি একান্তই ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য? না কি এটাও বিবর্তনের নিয়মে কোন প্রজাতির মধ্যে বেশি আর কোন প্রজাতির মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম আছে? এই প্রশ্নটার উত্তর খোঁজার চেষ্টা হয়ে চলেছে অনেকবছর ধরে । সন্তানের কল্যানের জন্য পিতামাতার স্বার্থত্যাগ বহু প্রজাতির মধ্যেই দেখা যায়। এটা বোঝা যেতে পারে এইভাবে, যে সন্তানকে বাঁচানোর মাধ্যমে কোন প্রজাতি আসলে নিজের ভবিষ্যতই রক্ষা করছে। কিন্তু এই তত্ত্বে যে গলদ আছে তা দেখিয়ে দিল এক অতি পরিচিত প্রাণী – শ্রমিক মৌমাছি ! এদের সন্তান হয় না, অথচ এদের নিঃস্বার্থ ব্যবহারের জুড়ি নেই। কেন?  এই ধরণের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মুশকিলে পড়লেন অনেকেই,  এমনকি বিবর্তনবাদ তত্ত্বের প্রবর্তক ডারউইনও। ডারউইন তার জীবনের শেষদিন পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। তাঁর মৃত্যুর প্রায় আশি বছর পরে কিভাবে হল এই গোলমেলে ধাঁধার সমাধান, সেই গল্প পড়া যাবে  ‘ধাঁধার থেকেও জটিল প্রাণী’ লেখাটিতে।

 এই ধাঁধার সমাধান তো হল, কিন্তু প্রত্যক্ষ প্রমাণ না পেলে বিজ্ঞানের কোনো তত্ত্বই সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাসযোগ্য নয়। বিভিন্ন বিজ্ঞানীরা নানা কঠিন পরীক্ষা করে যাচাই করলেন এই তত্ত্বের যথার্থতা। আশ্চর্যজনকভাবে দেখা গেলো অনেক ক্ষেত্রেই এই তত্ত্ব খাটে। এমনকি আমাদের অতি পরিচিত প্রাণী কুকুর, বেড়ালও এই তত্ত্বের আওতায় পড়ে, তাই তাদের উপর পরীক্ষা করেই এই তত্ত্ব প্রমাণ করা যায়। বাঁচার  তাগিদে কোন মা কি করে তাঁর সন্তানের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে সেই আশ্চর্য আবিষ্কারের কথা আমাদের শোনাচ্ছেন অনিন্দিতা ভদ্র, ‘স্বার্থপর মা’ লেখাটিতে। এটি লেখক ও তাঁর সহকর্মীদের মৌলিক গবেষণা।   

কিন্তু আমরা তো সকলেই জানি সন্তানদের প্রতি মায়েদের ভালোবাসা এক অনন্য অনুভূতি। শুধু মনুষ্যসমাজে নয়, প্রায় সমস্ত প্রাণীজগতেই এই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। অনিন্দিতা ভদ্র বলছেন কুমোরে পোকাদের মায়েদের আখ্যান, যাদের বাঁচার একমাত্র উদ্দেশ্য হল সন্তানের জন্ম দেওয়া ও তাকে বড় করার ব্যবস্থা করা। কিন্তু কুমোরে পোকারা কেন এমন করে? ডারউইনের বিবর্তনবাদ থেকে কি এর উত্তর পাওয়া যায়? মায়েদের চিরপরিচিত সন্তান স্নেহের উপাখ্যান জানতে হলে পড়তে হবে এই লেখাটি।        

 বিবর্তনের উপর লেখাগুলো ছাড়াও এই সংখ্যায় রয়েছে ‘দৈনন্দিন জীবনে রসায়ন’  বিভাগের একটি লেখা। খুব সহজ একটা প্রশ্নের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে ‘পেঁয়াজি’ লেখাটি – পেঁয়াজ কাটতে  গিয়ে চোখে জল তো আমাদের সকলেরই আসে, কিন্তু কেন?  এই প্রশ্নের উত্তর বুঝতে পারলে এমন প্রশ্নও তো করা যায়, এমন পেঁয়াজ কি কোনভাবে ‘তৈরি করা’ যায় যা কাটলে চোখ দিয়ে জল গড়ায় না?